ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ খেলার ছলে শ্যাম্পু খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু শ্বশুরের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতে মারা গেলেন পুত্রবধূ নারীর গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ডিবির জালে চক্রের ৩ সদস্য ‘উড়ন্ত রেডারে’র বহর বাড়াচ্ছে চিন, দেখাল উপগ্রহচিত্র! রশ্মিকাকে ‘তামিল অভিনেত্রী’ বলে সমালোচনার শিকার জাভেদ, পাশে দাঁড়াতে গিয়েও কটাক্ষের মুখে! কিশোরীকে চুম্বন করার ‘শাস্তি’! সরশুনায় বন্দুক দেখিয়ে নগ্ন করে পথে হাঁটানো হল তরুণকে, সঙ্গে বাবা এবং বন্ধুকেও! ৪৮ বছরেও অবিবাহিত, ডিম্বাণু সংরক্ষণ কেন করিয়েছেন? কারণ জানালেন কাজলের বোন তনিশা বিজয় আমার পেটে মালিশ করে দেয়, বললেন রশ্মিকা! পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর অপরিহার্য। পাবনায় জমে উঠেছে সপ্তাহব্যাপী পাবনা উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা নিদারুণ কষ্ট নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে অসহায় জোবায়ের শেরপুরে ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ২, মামলা প্রক্রিয়াধীন কর্মস্থলে গরহাজির হলেও মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তিতে সরব এই পুলিশ সদস্য! চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিমান্তে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ও চোরাচালান সামগ্রী জব্দ ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার সময় ৫ বাংলাদেশি আটক ‘বাবা এসেছে’ ভেবে দরজা খুলে বড় বিপদে ১০ বছরের শিশু! দাফনের জায়গা না থাকায় ঘরেই কবর হলো বৃদ্ধের ‘জীবনের প্রথম দেশের বাইরে যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে’

পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর অপরিহার্য।

  • আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৮:১৪:৩৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৮:১৪:৩৭ অপরাহ্ন
পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর অপরিহার্য। পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর অপরিহার্য।
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, ইসলাম ধর্মে পিতা-মাতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য (ফরজ) কর্তব্য।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে মহান আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের পরপরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর আলোচনায় এই বিষয়টি বারবার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে যে, পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মাঝেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে।

পিতা-মাতার আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারের অপরিহার্যতার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা:পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন:তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' (বিরক্তিজ্ঞাপক শব্দ) বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ নরম কথা বলো।"

(সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ২৩) আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:আল্লাহর সন্তুষ্টি: পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত। আল্লাহর অসন্তুষ্টি: পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত। (জামে তিরমিযী) জান্নাত লাভের উপায়:পিতা-মাতাই সন্তানের জান্নাত কিংবা জাহান্নাম নির্ধারণের উসিলা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "পিতা-মাতাই হলো জান্নাতের সর্বোত্তম দরজা।" বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতাকে পেয়েও যারা তাদের সেবা করে জান্নাত নিশ্চিত করতে পারল না, হাদিসে তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কোন ক্ষেত্রে আনুগত্য জরুরি: বৈধ কাজে: পিতা-মাতার যেকোনো বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত আদেশ মেনে চলা সন্তানের জন্য আবশ্যক। সীমা রেখা: যদি পিতা-মাতা সন্তানকে আল্লাহর সাথে শিরক করা বা কোনো পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার নির্দেশ দেন, কেবল তখনই তাদের সেই আদেশ মানা যাবে না। তবে সে ক্ষেত্রেও দুনিয়াতে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার ও সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে। মহান আল্লাহ পাক বাবা-মায়ের মর্যাদা অনেক উপরে দিয়েছেন।

অনেকেই তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। কিন্তু ইসলামে আল্লাহ পাক বাবা-মায়ের মর্যাদা অনেকে উপরে দিয়েছেন। যে বাবা-মায়ের কারণে একজন সন্তান পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয়, সেই বাবা মাকে যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, তারা আর যাই হোক মানুষ নয়। পবিত্র কোরআন পাকে আল্লাহ পাক তার নিজের অধিকারের পরই পিতা-মাতার অধিকারের কথা উল্লেখ করেছেন। কোরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। (সূরা বনী ইসরাঈল:২৩) ইমাম কুরতুবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ পাক পিতা-মাতার সম্মান এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সাথে বর্ণনা করে সন্তানের ওপর তা অপরিহার্য করেছেন।

যেমন- অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক নিজের শোকরের সাথে পিতা-মাতার শোকরকে একত্রিত করে তা আদায় করা অপরিহার্য করেছেন। কোরআনে পাকে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো এবং পিতা-মাতারও। (সূরা লোকমান : ১৪) এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে আল্লাহ পাকের ইবাদতের পর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা যেমন অতীব জরুরি অনুরূপভাবে পিতা-মাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করাও সন্তানের জন্য জরুরি। (তাফসীরে কুরতুবী: ৫/৫৭৫) এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, কোন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সময় মতো নামায পড়া।

তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। (সহীহ বুখারী: ১/৭৬) এ হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ নামাযের পড় আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কাজ হলো পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা। কোরআনে কারীমে এক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, আমি মানুষকে পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। (সূরা লোকমান : ১৪) উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, পিতা-মাতার আনুগত্য এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর অপরিহার্য। তবে সন্তানের ওপর পিতা অপো মাতার অধিকার বেশি।

এ ব্যাপারে হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু  বলেন, এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার সাহচর্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কে? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মাতা। সে আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মাতা। সে আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মাতা। সে আবার প্রশ্ন করলেন, তারপর কে? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার পিতা। অতঃপর ধারাবাহিকভাবে নিকটাত্মীয়। (সহীহ বুখারী: ২/৮৮৩) আল্লামা ইবনে কাছীর রাহ. এ হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন, উল্লেখ করেন, এ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সন্তানের ওপর মাতার অধিকার পিতার চেয়ে তিন গুণ বেশি। কেননা, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতার কথা তিনবার উল্লেখ করেছেন, চতুর্থবারে পিতার কথা উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া মাতার অধিকার বেশি হওয়ার স্বতন্ত্র কয়েকটি কারণ রয়েছে। এক. গর্ভধারণের কষ্ট। দুই. প্রসবকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্ভ প্রসবের কষ্ট  তিন. দুগ্ধপান করানো এবং সন্তানের সেবা-যত্ন নিয়োজিত থাকার কষ্ট। এসব কারণ পিতার মধ্যে বিদ্যমান নেই। (তাফসীরে কুরতুবী -৫/৫৭৫) তাছাড়া পবিত্র কোরআনে পাকে মায়ের কষ্টের এসব কারণের কথা উল্লেখ হয়েছে। আল্লাহ পাক বলেন, মাতা তাকে বড় কষ্টে গর্ভ ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে, আর তাকে গর্ভে ধারণ করা ও দুধ ছাড়ানো ত্রিশ মাস । (সূরা লোকমান :১৪) রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদিস শরীফে পিতা-মাতার আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারের অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন। যেমন- হযরত আবুদ্দারদা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বললেন, আমার স্ত্রীকে আমার মা তালাক দেয়ার জন্য আদেশ দিচ্ছেন, তখন আবুদ্দারদা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  কে বর্ণনা করতে শুনেছি, পিতা-মাতা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা।

এখন তোমাদের ইচ্ছে, এর হেফাজত করো অথবা একে বিনষ্ট করে দাও। (তিরমিযী শরীফ -২/১২) অন্য এক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত। (তিরমিযী শরীফ-২/১২) অন্যত্রে হযরত আবু উমামা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, সন্তানের ওপর পিতা-মাতার দায়িত্ব কী? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বললেন, তারা উভয়েই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। (ইবনে মাজাহ, পৃ-২৬০) এ হাদিসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের আনুগত্য ও সেবাযত্ন জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাদের সাথে অসৎ আচরণ ও তাদের অসন্তুষ্টি জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। অনেকে ধারণা করে থাকে, পিতা-মাতার আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারের জন্য তাদেরকে ওলীয়ে কামেল বা সৎ ব্যক্তি হতে হবে, এমন ধারণা আদৌ ঠিক নয়। এমনকি যদি কারো পিতা-মাতা অমুসলিম হয়, তাহলে তাদের সাথেও সদ্ব্যবহার করার জন্য ইসলাম জোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি  একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট আসলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মা আমার নিকট দেখা করতে আসেন, আমি কি তার সাথে সদাচরণ করতে পারবো? রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ! তার সাথে সদ্ব্যবহার করো। (বুখারী শরীফ-২/৮৮৪) ইসলামে পিতা-মাতার খেদমত ও তাদের সাথে সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব এতো বেশি যে, জিহাদ ফরযে কেফায়ার স্তরে থাকা পর্যন্ত পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া সন্তানের জন্য জিহাদে অংশ গ্রহণ করা জায়েয নয়। বুখারী শরীফে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বলেন, আমি জিহাদে অংশ গ্রহণ করতে চাই, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পিতা-মাতা জীবিত আছেন কী? সে বললো, হ্যাঁ! রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি পিতা-মাতার সেবাযত্নে আত্ননিয়োগ করো। (বুখারী- ২/৮৮৩) পিতা-মাতার খেদমত, আনুগত্য ও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় সন্তানের ওপর ওয়াজিব। তবে যখন পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হয়, তখন তারা বেশি সন্তানের খেদমতের মুখাপেক্ষী হয়। তখন যদি সন্তানের পক্ষ থেকে সামান্যও বিমুখতা প্রকাশ পায়, তা তাদের অন্তরে ত হয়ে দেখা দেয়। তাই আল্লাহ পাক কোরআন মাজিদে পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে, তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করণীয়, তা সম্পর্কিত কতিপয় নির্দেশনা বিশেষভাবে সন্তানদেরকে প্রদান করে বলেন, তাদের একজন বা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে, তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমকও দিও না, তাদের সাথে সম্মান সূচক শব্দ দ্বারা কথা বলিও। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলো, হে প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে শৈশব কালে লালন-পালন করেছেন। (সূরা বনী ইসরাঈল-২৩/২৪) আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ পাক সন্তানদেরকে কয়েকটি আদেশ প্রদান করেছেন, এক. পিতা-মাতাকে ‘উহ’ শব্দও বলবে না। এখানে ‘উহ’ শব্দ বলে এমন শব্দ বোঝানো হয়েছে, যা দ্বারা বিরক্তি প্রকাশ পায়। হযরত আলী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পীড়া দানের  ‘উহ’ বলার চাইতেও কম কোনো স্তর থাকলে তাও অবশ্যই উল্লেখ করা হতো। সারকথা, যে কথায় পিতা- মাতার সামান্য কষ্ট হয়, তাও নিষিদ্ধ। (তাফসীরে কুরতুবী-৫/৫৭৯) দ্বিতীয়. তাদেরকে ধমক দিবে না। এটি যে বেদনাদায়ক তা সকলের কাছে স্পষ্ট। সন্তান হিসেবে পিতা-মাতার প্রতি সর্বদা বিনয়ী থাকা, তাদের প্রয়োজন পূরণ করা, তাদের সাথে নরম ভাষায় কথা বলা এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা প্রত্যেকের অপরিহার্য দায়িত্ব। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার তাওফিক দান করুন আমীন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : md.masudrana2008@gmail.com

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার